বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো সহজ নয়, তবে আলোচনা চলছে
অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ শুল্কের জবাবে তৃতীয় ধাপের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, ইউএসটিআরের সঙ্গে গত বৈঠকটি আশাব্যঞ্জক ছিল। আগামীর আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি পণ্যের শুল্কহার শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা চলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
শেখ বশিরউদ্দীন আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ তার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ অব্যাহত রাখতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘যৌক্তিক পর্যায়ে’ শুল্ক নির্ধারণ করবে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কের হার কমানো বাস্তবে কঠিন হবে। নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (গোপনীয় চুক্তি) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার অনুমতি না থাকায় এখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের বিষয়টি এখন শুধু বাণিজ্যের সীমাবদ্ধ নয়, এতে অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ও জড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী, যা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি।
গত রোববার জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, নিরাপত্তা বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।
সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমানসহ অনেকে।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা শুল্ক বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বার্তা পাননি। একাধিক ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলনের পর এ তথ্য জানান। জানা যায়, চলমান শুল্ক জটিলতা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত চাওয়া হয়েছে। তবে শর্তাদি ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সম্পর্কে গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।